তাফসীর ইবনে আব্বাস

Tafsir Ibne Abbas

পি ডি এফ ফাইল আকারে ধারণকৃত ডাউনলোড

সাহাবী

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) عبد الله ابن عباس

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ (আরবি :عبد اللہ ابن عباس) ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ- এর একজন সাহাবী।  মুহাম্মাদ সাঃ-এর আবদুল্লাহ নামক চার জন বিশিষ্ট সাহাবী – যাদেরকে একত্রে ‘ عبادلۃ اربعۃ ‘বলা হয়, তিনি তাদের অন্যতম। তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখার সন্তান। মুহাম্মাদ সাঃ- এর সর্বকনিষ্ঠ চাচা আব্বাসের জ্যেষ্ঠ ছেলে। আব্বাস রাঃ ছিলেন একজন বিশিষ্ট সুবিজ্ঞ ফকিহ ও আল-কুরআনের তাফসীরের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় মুফাস্‌সির।[২][৩]। মুসলিম বিশ্বে তাকে রইসুল মুফাস্‌সিরিন বা সাইয়্যিদুল মুফাস্‌সিরিন (তাফসিরকারকদের প্রধান) বলা হয় ।

উপাধি

আল হিবর বা হিবরুল উম্মাহ্‌ অর্থাৎ মহাজ্ঞানী বা আল-বাহ্‌র অর্থাৎ সাগর। কারণ যে কোন দ্বীনি জিজ্ঞাসার জবাব তিনি প্রজ্ঞার সাথে উপস্থাপন করতেন। এক অনন্য ইসলাম ধর্মবিশারদ বলে তাকে মনে করা হতো। আর এ জন্যেই তার উপাধি হিবরুল উম্মাহ্‌।

নসবনামা

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম ইবনে আবদে মান্নাফ

পিতা-মাতা

তার পিতা হলেন মুহাম্মাদ সাঃ এর আপন চাচা আব্বাস। পুরো নাম আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব। মাতার নাম উম্মুল ফজল লুবাবা বিনতে আল হারিস।

জন্ম

তিনি মুহাম্মাদ সাঃ এর হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কায় ' শিআবে আবি তালিব '-এ জন্ম গ্রহণ করেন। কারো কারো মতে, হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন । তবে প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ও সঠিক ।[৪]

জন্মের পূর্বাপর বৃত্তান্ত

আল্লামা ইবনে কাসির বলেন,- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস স্বীয় জন্মের ওয়াকিয়া এভাবে বর্ণনা করেন যে, যখন হযরত নবি করিম (স.) শিআবে আবু তালিবে অন্তরীণ অবস্থায় জীবন যাপন করছিলেন - সে সময় একদিন আমার পিতা নবীজির খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললেন, "হে মুহাম্মাদ (স.)! উম্মুল ফজল তো সন্তান প্রসবা-গর্ভবতী ।" নবী করিম (স.) এই খবর শুনে বললেন, " চাচা, আল্লাহ আপনাদের চক্ষুদ্বয় শীতল করুক (অর্থাৎ চোখ জুড়ানো সন্তান দান করুক) ।" ইবনে আব্বাস বলেন - যখন আমার সম্মানিত মা-এর পবিত্র গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহণ করলাম তখন আমার পিতা আমাকে এক টুকরো কাপড়ে জড়িয়ে কোলে করে নবীজির কাছে নিয়ে গেলেন। নবি করিম (স.) আমার মুখে উনার একটু থুথু মোবারক দিয়ে 'তাহ্‌নিক' করলেন ।[৫] অন্য বর্ণনায় এসেছে যে,- নবীজি শিশু আবদুল্লাহর মুখে একটু থুথু মোবারক দিয়ে তাহ্‌নিক করেন এবং এই বলে দোয়া করেন - اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ
(আল্লাহুম্মা ফাক্কিহহু ফিদ্দিন ওয়া আল্লিমহুত তাবিল) অর্থাৎ- " হে আল্লাহ! আপনি তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে তাফসিরের অগাধ জ্ঞান দান করুন !"[৬][৭][৮][৯]

ইসলাম গ্রহণ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এর জননী হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন বিধায় তকে আশৈশব মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয়।

বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা

তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের অন্যতম । আল্লামা আইনির মতে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৬৬০ টি । কারো মতে ২৬৬০ টি । বুখারী শরিফে ও মুসলিম শরিফে যৌথভাবে ৯৫ টি, এককভাবে বুখারীতে ১২০ টি এবং মুসলিমে ৪৯ টি হাদিস উল্লেখ রয়েছে।[৯]

তার সম্পর্কে সাহাবিদের উক্তি

  • ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে আব্বাস সম্পর্কে বলেন, " ইবনে আব্বাস তোমাদের সকলের অপেক্ষা বড় বিদ্বান ।" উমর তার সম্পর্কে আরও বলতেন যে, " সে বয়সে তরুণ, জ্ঞানে প্রবীণ !"
  • ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলি কার্মাল্লাহু ওয়াজহাহু তার সম্পর্কে বলেন, " কুরআন কারিমের তাফসীর বর্ণনার সময় মনে হয় যেন তিনি (ইবনে আব্বাস) একটি স্বচ্ছ পর্দার অন্তরাল হতে অদৃশ্য বস্তুসমূহ প্রত্যক্ষ করছেন ।"
  • ইবনে মাসউদ বলতেন, " ইনি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার ।"
  • ইবনে উমর বলতেন, " মুহাম্মাদের উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তৎসম্পর্কে ইবনে আব্বাস এই উম্মাতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ।"[১০]

ইন্তিকাল

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বার্ধক্য জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন । তিনি ইবনে জুবায়েরের শাসনামলে ৬৮ হিজরি, ৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তায়েফে ইন্তিকাল করেন । মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর । মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা তার নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন ।